অমৃত রায়

নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের বাংলা সাহিত্যের এক রাজপুত্র। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয় ২৩ জুলাই। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে লাখো মানুষের অশ্রু-পুষ্প ও ভালোবাসায় সিক্ত হন সব বয়সী মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই লেখক-নির্মাতা। পরদিন তাঁকে সমাহিত করা হয় তাঁরই গড়া নন্দনকানন গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।
নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরই আগের রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোকসজ্জা করা হয় । থাকে দিনব্যাপী কোরআনখানি, এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ, ফুল দিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিল। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নানা আয়োজনে দিনব্যাপী স্মরণ করা হতো প্রিয় লেখককে।
হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই তিনি খ্যাতি লাভ করেন। এ দেশে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকা এই লেখক দুই শতাধিক ফিকশন ও নন-ফিকশন বই লিখেছেন। হিমু, মিসির আলীর মতো চরিত্র দিয়ে লাখো-কোটি পাঠক-ভক্ত তৈরি করেছেন এই কথার জাদুকর। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
পেশাগত জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনায় ইস্তফা দিয়ে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আবির্ভাব ঘটে হুমায়ূন আহমেদের। নিজের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ প্রভৃতি। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ চলচ্চিত্রের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এর আগে টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে তিনি সারা দেশের দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

হুমায়ুন আহমেদ ছিলেন বাংলার নাট্যকার, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার, ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে পরিচিত। উনার গল্প, উপন্যাস, নাটক মানুষ কে এক ভিন্ন জগতের ভিতর নিয়ে যায়। “মিসির আল” এবং” হিমু” তার সৃষ্ট অন্যতম দুইটি শ্রেষ্ট চরিত্র। তিনি আমাদের নেত্রকোনা এবং সারা বাংলার গর্ব।

তামান্না ইভা

হুমায়ুন আহমেদ মানেই নন্দিত নরকের অমত্র্য দূত।যিনি সাহিত্য কে করেছেন অলংকৃত। তার দেওয়া উপহারে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে তার নতুন আভূষণ। হুমায়ুন আহমেদ মানেই বিচ্ছুরিত আশ্বাসের বৈচিত্র্যময় নাটকের মহড়া। হুমায়ূন আহমেদ মানেই নৈসর্গিকতা।

কারিশমা ওয়াজেদ শ্রেয়সী

হুমায়ূন আহমেদের সাথে পরিচয় কৃষ্ণপক্ষ দিয়ে। গল্পের সমাপ্তি বেশ কষ্ট দিয়েছিল। একে একে হিমু আর মিসির আলীর সাথে পরিচয়। যেহেতু বেশিরভাগ বই ই একবিংশ শতাব্দীর আগের লেখা, সেহেতু তার লেখায় আগের দিনের ঢাকাকে কল্পনা করে একটা দারুন তৃপ্তি পাওয়া যায়। আমি রসায়নের ছাত্র হওয়ার সুবাদেও তার প্রতি আলাদা আকর্ষণ কাজ করে। তাই সবার মতই তার লেখা কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি বইটা পেয়ে ফিকশন মনে করে পড়ার শুরু করার পর বুঝলাম আসলেই এইটা কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রি এর বই। ব্যক্তিজীবন, শিক্ষাজীবন ছাপিয়ে তার লেখা যে একটা আলাদা জগৎ তৈরি করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

সেতু কর্মকার

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর লেখা  পড়ে বাংলাদেশের বহু কিশোর-কিশোরীর স্কুল জীবন কেটেছে। রবীঠাকুর কিংবা তার সমসাময়িক অন্যান্য লেখকদের সাধু ভাষায় লেখা গল্প উপন্যাসের চেয়ে আমার বেড়ে ওঠার সময়কার কিংবা তার এক দশক আগের প্রেক্ষাপটে লেখা গল্প উপন্যাস বেশ প্রানবন্ত লাগতো আমার কাছে। হুমায়ুন আহমেদ এর লেখার সহজ সাবলীল ধরনের জন্যই সেগুলো এতো পাঠক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মিসির আলি, হিমু  কিংবা শুভ্র কে কল্পনায় দেখতে পেতাম। মেয়েদের সাইকোলজি যে উনি খুব সুন্দর করে বুঝতে পারতেন ওনার লেখায় সেই প্রমাণ পাওয়া যায়। অনেক গল্পেই সুন্দর সমাপ্তির বদলে করুন সমাপ্তি দিয়ে তিনি মন খারাপ করিয়ে দিতেন। তেমন একটা গল্প “অপেক্ষা”। প্রতিবার তার জন্মদিনে আমরা পাঠকরা তাকে খুব করে মনে করি আর সেই সাথে নতুন গল্পের জন্য ভেতর টা হাহাকার করে ওঠে!

ফাওজিয়া আফিয়া জিনিয়া

কথা সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ুনের আজ প্রয়াণ দিবসে আজকের বিশেষ আয়োজনে থাকছে তরুণদের  হুমায়ুন ভাবনা। লেখাটির আয়োজনে কাজ করেছেন অমৃত রায়।