অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব, বাঙালির পক্ষে এটাও কি সম্ভব? ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে গোটা জাতিকে অর্জন করে দিয়েছিলেন পরম আনন্দ, স্বাধীনতার সুখ, দিয়েছিলেন একটা স্বাধীন সার্বভৌম মানচিত্রে বসবাসের সুযোগ, ঠিক তেমনিভাবে ২০২২ সালে ২৫ জুন জাতির পিতার উত্তরসূরী তাঁরই সুযোগ্য তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে দিলেন অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বাবলম্বিতা ও গর্বের পরম আনন্দ। এ যেন পৃথিবীর বুকে স্বাধীন একখণ্ড মানচিত্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। 

মহান মুক্তিযুদ্ধের পর সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ১৯৭২ সালে বলেছিলেন, ”বাংলাদেশ একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হতে যাচ্ছে”। সেই কথার সমুচিত জবাব একবার দিয়েছিলেন জাতির পিতা অতি অল্প সময়ে স্বনির্ভরতার দিকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে। আরেকবার সেই বিদ্রুপের জবাব দিলেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা যিনি দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্নে আপসহীন, যিনি দেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালি করতে কঠোর প্রতিশ্রুতিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সমুচিত জবাব, এই কঠোরতা, এই অবিচলতা, এই ত্যাগ পিতার মতোই শুধু দেশের আত্মসম্মানের জন্য, আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য, বাঙালির আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য। 

তাইতো বলতে ইচ্ছে করে, চেয়ে দেখুন হে পিতা, আপনার আদর্শে উজ্জীবিত বাঙালি আপনার কথা রেখেছে, এই জাতিকে কেউ দাবায় রাখতে পারে নাই আর পারবেও না কখনও। পৃথিবীর ইতিহাসে একটিই জাতিরাষ্ট্র যারা ভাষার জন্য, স্বাধীনতার জন্য অজশ্র রক্ত ঝড়িয়েছে। তাদেরকে সহায়তা না করার ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যায় না, যখন এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য আছেন মানবতার নেত্রী পদ্মাকন্যা শেখ হাসিনা। বিশ্ব মোড়লদের দাপটের বিরুদ্ধে এবং দেশের নুন খেয়ে ভিনদেশীদের তাবেদারী করা বুদ্ধিজীবী নামের দালালদের বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব হল বাঙালীর গর্বের, আত্মমর্যাদার, অহংকার এর প্রতীক পদ্মা সেতু। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সঙ্গে গোটা দেশের মহাকালের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে এই স্বপ্নের সেতু।

পৃথিবীর বৃহত্তম সড়ক সেতুগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতুর অবস্থান ২৫তম। তবে নদীর ওপর নির্মিত সব সেতুর মধ্যে দৈর্ঘ্যের দিক থেকে পদ্মা সেতুর অবস্থান প্রথম। সেতুর ফাউন্ডেশনের গভীরতার দিক থেকেও এর অবস্থান প্রথম (বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট, ফেব্রুয়ারি, ২০১৬)। প্রমত্তা খরস্রোতা পদ্মা নদী। পানি প্রবাহ বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন নদীর পরেই এর অবস্থান। মাটির ১২০ থেকে ১২২ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো বিশ্বে রেকর্ড। পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো সেতুতে পাইল এতো গভীরে প্রবেশ করাতে হয়নি। পিলার এবং স্প্যানের মাঝে ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ওজনের একেকটি বেয়ারিং ব্যবহৃত হয়েছে। জানা গেছে, পৃথিবীতে এর আগে এমন বড় বেয়ারিং ব্যবহার করা হয়নি কোনো সেতুতে। পরের রেকর্ডটি ব্রিজে ব্যবহৃত ক্রেন। পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটি আনা হয়েছে চীন থেকে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুণতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এই ক্রেনটির বাজার দর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অধিকাংশ সেতু সাধারণত হয় কংক্রিট না হয় স্টিল দিয়ে নির্মিত। কিন্তু পদ্মা সেতুই বিশ্বে প্রথম যেটির নির্মান শৈলীতে কংক্রিট এবং স্টিল দুটোই ব্যবহৃত হয়েছে। 

আরও চমকের কথা হল, পদ্মাসেতু নির্মাণে যে স্ক্রিন গ্রাউটিং পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে বিশ্বে তার দৃষ্টান্ত খুব একটা নেই। পদ্মা সেতুর নকশা অনুযায়ী কাজ শুরু করতে গিয়ে নদীর প্রধান চ্যানেলে কয়েক জায়গায় ভিন্ন ধরনের মাটি পাওয়া যায়। যা পিলার নির্মাণের উপযোগী নয়। এধরনের মাটিতে পিলার নির্মাণে ভেংগে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। এমন অবস্থায় কাজ করার জন্য দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমত, পাইল নিয়ে যেতে হবে আরো ১৩৩ মিটার গভীরে। আর দ্বিতীয়ত, গভীরতা কমিয়ে পাইলের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রথম পদ্ধতিটি সম্ভব ছিল না। কারণ বিশ্বের সর্বোচ্চ শক্তির হ্যামার দিয়ে পদ্মাসেতুতে পাইল ড্রাইভিং করা হচ্ছে। যা দিয়ে আরো ১৩৩ মিটার গভীরে যাওয়া সম্ভব নয়। আরো ১৩৩ মিটার গভীরে পাইল নিয়ে যেতে হলে নতুন আরেকটি হ্যামার আনতে হবে এবং সে ধরনের হ্যামার জার্মানিতে তৈরি করে আনতে এক থেকে দেড় বছর লাগবে। এতে পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজে বিলম্ব হতো। তাই ‘স্ক্রিন গ্রাউটিং’ পদ্ধতিতে নদীর তলদেশে মাটির গুণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে তারপর পাইল ড্রাইভিং করা হয়। পাইল ড্রাইভিংয়ের সময় তার পাশে কয়েকটি স্টিলের চ্যানেল দিয়ে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ সরবরাহ করা হয়, যা আশপাশের মাটিকে শক্তিশালী করে। এমন পদ্ধতির প্রয়োগ বাংলাদেশে এই প্রথম। গোটা বিশ্বেও এই পদ্ধতি প্রয়োগের নজির খুব একটা নেই। (ডেইলি বাংলাদেশ, ২০২০)

পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরস্রোতা পদ্মা নদীর উপর ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার হাতে কলমে একটি অর্থনৈতিক বিজয়ের প্রমাণ করে দিয়েছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা ও জনসমর্থনকে ভিত্তি করে নেতৃত্বের দৃঢ়তা, স্বকীয়তা, দূরদর্শিতা ও সাহসীকতার সোনালী ফসল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের মূর্ত প্রতীক হচ্ছে বিশ্বের ২৫-তম অবস্থান করা পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান বাস্তবতা। তবে পদ্মাসেতুর এই বাস্তবায়নের পথ মোটেই মসৃণ ছিলো না। জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মুখে পড়তে হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে। ওঠে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগও।

দীর্ঘ একুশ বছর পর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সরকার ক্ষমতায় এসেই ১৯৯৮-৯৯ সালে পদ্মা সেতুর প্রি-ফিজিবিলিটি সম্পন্ন করা হয় তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারই নির্দেশে। এরপর থেমে থাকে সবকিছু। ভিত্তিপ্রস্তরে জমতে থাকে ধুলো ময়লা। বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকার পদ্মাসেতুর কথা ভুলে বসে থাকে। ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সে সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে পদ্মাপাড়ের মানুষদের দুঃখ দুর্দশা চাপা পড়ে যায়। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পদ্মা সেতুর জন্য ডিজাইন কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়। ২০০৯ সালে নিয়োগ করা কনসালট্যান্ট ২০১০’-এর শেষের দিকে প্রাথমিক ডিজাইন সম্পন্ন করলে সরকারের সেতু বিভাগ প্রিকোয়ালিফিকেশন দরপত্র ডাকে। ২০ জুলাই ২০১০ তারিখে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ৫ জন দরদাতাকে  প্রিকোয়ালিফাইড বিবেচনা করে প্রতিবেদন দেয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক নতুন করে প্রিকোয়ালিফিকেশন দরপত্র ডাকার অনুরোধ করে। সেতু বিভাগ সে অনুযায়ী আবারও প্রিকোয়ালিফিকেশন দরপত্র ডাকে। ১০টি প্রতিষ্ঠান প্রিকোয়ালিফিকেশন দরপত্র দাখিল করে। দেশ বরেণ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রিকোয়ালিফাইড বিবেচনা করে ২০১১ সালের শুরুতে প্রতিবেদন দিয়ে বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তির জন্য পাঠানো হয়। বিশ্বব্যাংক অনাপত্তি দিলে ২০১১ এর জুলাই মাসে সেতু বিভাগ থেকে মূল সেতুর বিড ডকুমেন্ট বিশ্বব্যাংকের সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। একই বছর ২৮ এপ্রিল পদ্মা নদীতে ভাসমান ফেরিতে বসে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নদীর বুকে ভাসমান ‘ভাষাশহীদ বরকত’ ফেরিতে দুপুর পৌনে একটায় উৎসবমুখর পরিবেশে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে বাংলাদেশের আবাসিক পরিচালক অ্যালেন গোল্ডস্টেইন ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পদ্মার বুকে ভেসে পদ্মা সেতুর জন্য ঋণচুক্তি স্বাক্ষর (প্রথম আলো)। 

২১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো দুর্নীতির অভিযোগ এনে সরকারের কাছে চিঠি দেয় এবং ঋণ চুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। আকস্মিক এই ঘটনায় হতবিহবল হয়ে পড়ে গোটা জাতি। তথাকথিত সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তি নানাভাবে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠে। সরকারের ভাবমুর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। অর্থনীতিবিদ, সমাজবিদ, রাষ্ট্রচিন্তক, রাজনীতিবিদ সন্দেহ-সংশয়-বিদ্রূপ করছিল, তখন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ব্যানারে অধ্যাপক আবুল বারকাতের “নিজ অর্থে পদ্মা সেতু” গবেষণা ও বিস্তারিত তথ্যউপাত্ত তুলে ধরা জাতিকে যথেষ্ট আশান্বিত করেছিল। দেশের শত্রু একটি কুচক্রী মহল এর প্ররোচনায় পদ্মা সেতুর সুপারভিশন কনসালট্যান্সির কাজ একটি বিশেষ কোম্পানিকে পাইয়ে দেয়ার ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ উত্থাপন করে বিশ্বব্যাংক। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকল্প থেকে সরে আসে বিশ্বব্যাংক। চুক্তি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির সন্দেহে প্রকল্প সহযোগিতা স্থগিত রাখে এবং অন্যান্য সহযোগীকে (জাইকা, এডিবি, আইডিবি) অনুরূপ ব্যবস্থা নিতে রাজি করে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে হয়। সরে দাঁড়াতে হয় অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে। কারাগারে যেতে হয় সেতু সচিবকে। দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের নীতি। বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি রোধ প্রচেষ্টায় সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করে। দুর্নীতি দমন কমিশন বিশ্বব্যাংকের অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করে কোনো সত্যতা পায়নি। কানাডার সুপিরিয়র আদালতও শুনানির পর গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে মোকদ্দমা খারিজ করে দেয় (মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা সেতু : সততা ও আত্মবিশ্বাসের বিজয়)। তাহলে কেন বিশ্বব্যাংকের এমন আচরণ? ‘যে ঋণ ছাড়ই হয়নি, সে ঋণে দুর্নীতি হয়েছে’-এমন নানা ধরনের অপবাদ ও কালক্ষেপনের মধ্য দিয়ে ২৯ জুন ২০১২ এ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সরে গেল এই বিশ্ব উন্নয়ন সহযোগী। অথচ স্বাধীনতার পর থেকেই বিশ্বব্যাংক আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। আমাদের উন্নয়নে তাদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সেই তারাই সরে গেছে আমাদের অতি প্রয়োজনের সময়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে।

কালক্ষেপণের এবং মোড়লীপনার এসব নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নকে প্রত্যাখান করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ২৬ জুন মূল সেতুর প্রিকোয়ালিফাইড ঠিকাদারকে বিড ডকুমেন্ট ইস্যু করা হয়। বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ পায় চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ পায় চীনেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। এভাবেই সেতু বাস্তবায়নের কন্টকাকীর্ণ পথকে পারি দিয়ে দেশের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতুর ফলে পদ্মাপারের মানুষদের দীর্ঘকালের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে। আর শুনতে হবে না মাওয়া-কাঁঠাল বাড়ি অথবা শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরী ঘাটের দীর্ঘ যানজট, শুনতে হবে না বৈরী আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ ইত্যাদি। ফেরি বন্ধের কারণে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে হবেনা পদ্মার ওপারের মানুষদের, অসহায়ভাবে দেখতে হবে না মৃতদের স্বজনদের কান্নার আহাজারী। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসরত মানুষগুলোর মধ্যে কর্মচঞ্চলতা বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের ঘামঝরা শ্রমের ফসল ঢাকাসহ সারাদেশের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে যথাযথ শ্রমমূল্য পাবে। একইভাবে দেশীয় বাজারে সকলের জন্য সম-প্রতিযোগিতা নিশ্চিত এর মাধ্যমে ভোক্তাগণ গুণগত মানসম্পন্ন দেশীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত হবে। আর এতেই বাড়বে অর্থনৈতিক গতিশীলতা। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর জিডিপি ২০২৭ সালের মধ্যে ৫ থেকে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় জিডিপি প্রতি বছর ১.২ থেকে ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের ভিশন ৪১ এবং ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে। জাতিরাষ্ট্র পাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।

লেখকঃ অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মোঃ লুৎফর রহমান।
সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।