বিনোদন ডেস্ক – বোরকা পরে, নেকাবে মুখ ঢেকেই দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন নারী র‍্যাপার।

তিনি মনে করেন নারীর হিজাব  প্রতিভা বিকাশে বাধা হতে পারে না। হাজারও বাধা-বিপত্তির মধ্যে সোচ্চার তার কণ্ঠস্বর। বোরকা পরে, নেকাবে মুখ ঢেকেই বাজিমাত করেছেন পাকিস্তানের সংখ্যালঘু বালোচ উপজাতির প্রথম র‌্যাপ গায়িকা।

ফিউশনধর্মী গানের জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া কোক স্টুডিওর ‘কানা ইয়ারি’ গানটি ইভাকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। ইতোমধ্যে গানটির ভিউ ১০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। তবে এই গানটি নিয়েও ঝামেলায় পড়েছিলেন তিনি।

পিতৃতান্ত্রিক কঠোর শাসনেই কাটে পাকিস্তানের উপজাতি মেয়েদের জীবন। ইভাও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। গানের ক্ষেত্রে তার প্রথম বাধা আসে পরিবার থেকেই। কিন্তু নিজের লক্ষ্যে অটুট ছিলেন ইভা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে রেকর্ডিংয়ে যেতেন তিনি। এ ছাড়াও কোক স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড করার আগে কীভাবে রিহার্সাল করবেন সেটা বুঝতে পারছিলেন না ইভা। শেষমেশ বন্ধুর বিয়ের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে রিহার্সাল চালিয়ে গেছেন এই নারী র‍্যাপার।

সবসময় হিজাব পরে গান গাওয়া ইভা বি যে সমাজ থেকে উঠে এসেছেন, সেখানে খুব কম সংখ্যক নারীই চাকরি করেন। তেমন একটি পরিবেশে কোনো নারীর র‍্যাপ গান গাওয়া সমাজ সহজভাবে নিতে না পারাটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে এমনিতেই তাদের জীবনে নানা প্রতিকূলতা। তবে একসময় ইভার অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানে তার পরিবার। ভাইয়ের কাছ থেকে গান গাওয়ার অনুমতি পান তিনি, তবে একটি শর্তে। আর সেই শর্তটি ছিল বোরকা পরতে হবে। শর্ত মেনেই গান চালিয়ে যান ইভা বি।

প্রসঙ্গত, আমেরিকান র‍্যাপার এমিনেমের গান শুনেই র‍্যাপ গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ইভা বি। ২০১৪ সালে গানে পথচলা শুরু করেন তিনি। কিন্তু ভাইয়ের কটূক্তি শুনে পরের বছরেই গান গাওয়া থামিয়ে দেন। চার বছর গান গাওয়া থেকে দূরে ছিলেন এই গায়িকা। সে সময় কলমকে হাতিয়ার করেই নিজের দেশের মেয়েদের কথা বলছিলেন তিনি। তার এই লড়াইয়ে পাশে ছিলেন মা। আর তাই ডান হাতের উল্কিতে ‘মা’ কথাটি লিখে রেখেছেন এই র‍্যাপার।