নিজস্ব প্রতিবেদক- বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-  মনসুর আহমেদ (৩৩)  ও তার অন্যতম সহযোগী মো. মহসিন চৌধুরী (৫৫)।
মনসুর আহমেদ চাঁদপুর সদর থানার আবুল হাসিম কাজীর পুত্র এবং  মহসিন চৌধুরী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৃত সাইদুল হক চৌধুরীর পুত্র। তাদের নিকট  থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দলিল পত্র ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার  দিবাগত রাত ১০ টার দিকে রাজধানীর পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের  গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
খন্দকার আল মঈন জানান,  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‌্যাব-৩ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মনসুর আহমেদ ও তার সহযোগী  মো. মহসিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। এই চক্রে ৫ থেকে ৭ জন সদস্য রয়েছে। এ চক্রের মূলহোতা হলো  মনসুর আহমেদ । 
র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান বলেন, এই চক্রটি বিগত ৩ থেকে ৪ বছর যাবত বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতারণা করে আসছিল। তারা প্রতারণার জন্য বিভিন্ন সময় নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করত। প্রথমত তারা নতুন মোবাইল সীম ক্রয় করে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে সেভ করত এবং নিজেরা ওই ব্যক্তি সেজে নিজেদের প্রতারণা চক্রের সদস্যদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যাটিং করত। পরবর্তীতে চক্রের সদস্যদের বিভিন্ন মোবাইল নম্বর চক্রের মূলহোতা ও সহযোগীর  মোবাইলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি দিয়ে সেভ করে। এভাবে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার ব্যপারে চ্যাটিং করে।  এই চ্যাটিং কন্টেন্ট তারা এমনভাবে তৈরি করে যাতে যেকোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনে করে তারা ইতোপূর্বে অনেক কাজ অর্থের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছে এবং তাদের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সাথে খুবই  সুসম্পর্ক রয়েছে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান,  এই চক্রের একজন সদস্য তথাকথিত সাইফুল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে। যে নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিচয় দিত এবং সেখানে বসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিত।
খন্দকার আল মঈন  জানান, তারা সরকারি কোন চলমান প্রকল্পের কাজ পাওয়ার যোগ্য এমন সব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করত এবং তাদেরকে শতকরা ১০ ভাগ কমিশনের বিনিময়ে ঐ কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখাত। তারা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য তাদের পূর্ব হতে নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের ভাড়া করা অফিসে মিটিং করত। অথবা নিজেরা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসে যেত। সেখানে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তাদের যোগাযোগ আছে বলে মিথ্যা রেফারেন্স ব্যবহার করত।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত চক্রের আরেক সদস্য সাইফুল নিজেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে মিথ্যা প্রচারণা করত এবং নিজেকে ওই রাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী অফিসে কর্মরত বলেও পরিচয় দিত।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, এ প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিশ্বাসযোগ্যতা অধিকতর প্রমাণের জন্য তারা চলমান সরকারি প্রকল্প সমূহে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছে বলে ঐ সব প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করত। যারা ইতোমধ্যে চলমান কোন সরকারি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। এক পর্যায়ে তারা বিভিন্ন ভূয়া প্রতিষ্ঠানের সাথে করা ভূয়া চুক্তিপত্র, ভূয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত। এভাবে দীর্ঘদিন যাবত প্রতারণা কার্যক্রম চালিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতো প্রতারক চক্রটি।
র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মনসুর প্রথমে স্থানীয় এলাকায় জমির কেনাবেচা করত। পরবর্তীতে সে ঢাকায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়। সেখানে থাকাকালীন এভাবে প্রতারণার বিষয়টি তার মাথায় আসে। পরবর্তীতে ওই এজেন্সির এক কর্মচারীর মাধ্যমে সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় হলে সে প্রতারণার জন্য এই চক্রটি গড়ে তোলে। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।