নিজস্ব প্রতিবেদক-

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে, ইউক্রেনে আটকে পড়া বাংলাদেশীদেরকে প্রতিবেশী পোল্যান্ডের মাধ্যমে পূর্ব ইউরোপের অশান্ত দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়ারশ তাদেরকে ১৫ দিনের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দিতে সম্মত হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আজ বিকেলে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পোলিশ সরকার বাংলাদেশী নাগরিকদেরকে ১৫ দিনের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা দিতে সম্মত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে অবস্থানরত ২৫০ জন বাংলাদেশী এখন পর্যন্ত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী আরও ২৫০ জন বাংলাদেশী বর্তমানে  সেখানে বসবাস করছে। তবে, এই সংখ্যা ৫০০ জনের বেশি হতে পারে।
ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে পোল্যান্ডের অবস্থান। রাশিয়ান সৈন্যরা পূর্ব দিক দিয়ে ইউক্রেনে অনুপ্রবেশ করেছে।   
আলম বলেন, বাংলাদেশ সরকার চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে পোল্যান্ড থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেবে। বাংলাদেশের ওয়ারশ মিশনে অতিরিক্ত জনবল নিয়ে প্রস্তুত রাখা  হয়েছে। জার্মানি ও ইতালির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ওয়ারশতে বাংলাদেশ মিশন বাংলাদেশী নাগরিকদের সনাক্ত করতে এবং কনস্যুলার পরিষেবার পাশাপাশি তাদের অস্থায়ীভাবে বিনামূল্যে থাকার জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনে পোলিশ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউক্রেনে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিকদেরকে ওয়ারশতে বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে  টেলিফোন নম্বর: +৪৮৫৭২০৯৪৩৮১ এর মাধ্যমে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং তাদের নিরাপদ স্থানে এবং প্রয়োজনে পোল্যান্ডে যেতে বলেছে।
আলম বলেন, ইউক্রেনে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বিমান চার্টার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে যে, ইউক্রেনে সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন কারণ এই ধরনের সহিংসতা সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাই, আমরা সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখা, বৈরীতা বন্ধ করার এবং কূটনীতি ও সংলাপে ফিরে আসার মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে ঢাকা এই অঞ্চলে এবং এর বাইরেও অর্থনীতিতে ইউক্রেন সঙ্কটের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করছে। অনেক বিশ্লেষক এই পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে গুরুতর ইউরোপীয় সংকট বলে অভিহিত করেছেন।