নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় জমি নি‌য়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের আটজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জালাল উদ্দীন (৬৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রবিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমেশ্চুড়া জোড়ার পাড় গ্রামের প্রতিপক্ষ নই মিয়া, তার ছেলে শফিকুল ও তাদের লোকজন কু‌পি‌য়ে মারাত্মক জখম করে জালাল উদ্দীনসহ তার পরিবারের আটজনকে। এ সময় মারাত্মকভাবে আহত হন জালাল উদ্দিন (৬৫), তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), তাদের মেয়ে জামেনা খাতুন (৩৩), ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৮), মনির হোসেন (২৫), এরশাদ আলী (২২), ছেলে আব্দুর রশিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০) এবং মনিরের পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২)।  
এ ঘটনায় জালাল উ‌দ্দি‌নের সন্তান বাদী হ‌য়ে না‌লিতাবাড়ী থানায় ১৫ জন‌কে আসামি ক‌রে মামলা ক‌রেন। পু‌লিশ তিনজন আসামিকে গ্রেফতার ক‌রেন।

এলাকাবাসী জানায়, অর্পিত ছয় শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল ভূমিহীন জালাল উদ্দিন ও প্রতিবেশী নই মিয়ার মধ্যে।

নই মিয়া দাবি করে আসছিলেন, ছয় শতাংশ অর্পিত জমি জালাল উদ্দিন জোর করে ভোগদখল করছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় কয়েক দফা সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নই মিয়ার ছেলে শফিকুলের দেওয়া একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য জালাল উদ্দিনসহ তার পরিবারের আটজন শেরপুর আদালতে যান। এ সুযোগে নই মিয়া, তার ছেলে শফিকুল ও সোহান ৩০-৪০ জন লোককে নিয়ে জালাল উদ্দিনের দখলে থাকা জমিতে ঘর তুলতে শুরু করেন। জালাল উদ্দিনরা বাড়ি ফিরলে এ অবস্থা দেখে প্রতিবাদ করলে পূর্ব  থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা নই মিয়া, তার ছেলে শফিকুল ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে জালাল উদ্দিন ও তার পরিবারের আটজনকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জালাল উদ্দিনের জামাতা আন্তাজ আলী আহতদের প্রথমে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। আহতদের মধ্যে জালাল উদ্দীন, তার স্ত্রী  মনোয়ারা বেগম, মেয়ে জামেনা খাতুন ও ছেলের বউ শাহনাজ এ চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিদের মধ্যে দু’জনকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়, এদিকে আহত জালাল উদ্দীনের অবস্থা আরো অবনতি  হলে তাকে ৬ নভেম্বর  ময়মনসিংহ  মেডিকেল  কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে  চিকিৎসা চলাকালীন রবিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

জালাল উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম (২৮) বলেন, আমরা ভূমিহীন, আমাদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। স্থানীয় স‌মেশ্চুড়া মৌজার ২১৪ দাগের ছয় শতাংশ জমিসহ ঝোড়ার কিছু সরকারি জমিতে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বাড়িঘর করে বসবাস করে আসছি। নই মিয়া আমাদের বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছিল, গত ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার তারা আমার বৃদ্ধ বাবা, মা, ভাই, বোন ও ভাবিদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে, এ ঘটনায় আমার বাবা ১০ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকা মেডিকেল এ মারা গেছে। আমি নই মিয়া গংদের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজা নাজনিন বলেন, আমরা বিষটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি, ঘটনার পরপরই কয়েকজনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণা করা হয়েছিল। যেহেতু একজন মারা গেছে এখন তদন্তকারী কর্মকর্তা, ওসিসহ আমরা বসে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।