নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে আসক্ত ছিলেন একসময়ের আলোচিত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের মেয়ে জান্নাতুল নওরিন এশা (২২)। তার লাইফ স্টাইল ছিল অন্যরকম। প্লাবন ঘোষ (২৪) নামের এক যুবকের সঙ্গে ছিল তার প্রেমের সম্পর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ওই প্রেমিকের সঙ্গে অমিল হওয়ার কারণেই তাকে ভিডিও কলে যুক্ত রেখে আত্মহত্যা করেছেন এশা। মুঠোফেনে ভিডিও কল আসাকে কেন্দ্র করেই তাদের মধ্যে ঝগড়া, এমনকি মারধরের ঘটনা ঘটে। যে ঘটনা শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যায় গড়ায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার আগে ভোর পর্যন্ত বাসায় ছিলেন না এশা। সারারাত ছিলেন প্রেমিক প্লাবন ঘোষের সঙ্গে। ভোর পৌনে ৫টার দিকে বাসায় ঢোকেন এশা। এর কিছুক্ষণ পরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। গত শুক্রবার (৪ মার্চ) ভোরে রাজধানীর গুলশানের শাহজাদপুরের সুবাস্তু টাওয়ারের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এশার মা সানজিদা আক্তার (৪৮) আলোচিত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী। সানজিদার দাবি, আত্মহত্যার সময় এশা প্লাবনকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন।

সানজিদা আক্তার দাবি করেছেন, সারা রাত প্লাবনের সঙ্গে বাইরে কোথাও ছিলেন এশা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে শাহজাদপুরের ওই ভবনের সামনে এশা ও প্লাবনের মধ্যে কথা কাটাকাটি, ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এশার আত্মহত্যার পর এ ঘটনায় তার প্রেমিক প্লাবন ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা করেন সানজিদা আক্তার। গুলশান থানায় করা এ মামলায় প্লাবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে আত্মহত্যায় প্ররোচণার। প্লাবন এখন পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।

যা বললেন ওসি

এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আসামি প্লাবনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তিনি পলাতক আছেন। তবে, প্লাবনকে আমরা দ্রুতই ধরে ফেলার আশা করছি। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে এ ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।’

জানা গেছে, এশা টিকটকে সক্রিয় ছিলেন। টিকটকে তার কয়েকটি ভিডিও দেখা যায়।

এশার মা সানজিদার বক্তব্য

সানজিদা আক্তার বলেন, ‘অনেক রাত হয়ে যাওয়ার পরেও যখন এশা বাসায় ফিরছিল না, তখন আমি প্লাবনকে ফোন করি। প্লাবন জানায়, এশা তার সঙ্গে আছে। এরপর রাত ১টার পর আবার ফোন করি। তখন প্লাবন জানায়, এশা পাগলামি করছে। তারা গণ্ডগোল করছে। তখন আমি প্লাবনকে বলি, আমার মেয়ের কিছু হলে সব দোষ তোমার। আমার মনের মধ্যে কেমন যেন করছিল তখন।’

‘এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমি বাসার দারোয়ানকে ফোন করি। জিজ্ঞাসা করি, এশাকে দেখেছে কি না। তখন দায়োয়ান আমাকে বলল, এশা আর প্লাবন বাড়ির সামনে ঝামেলা করছিল। হাতাহাতি করছিল তারা। প্লাবনের সঙ্গে গাড়ি ছিল। ওরা দুজন সারা রাত বাইরে রাস্তায় রাস্তায় ছিল বোধ হয়। ভোরের পর প্লাবনের সঙ্গে আমার আর কথা হয়নি। আমি চাই, সে তার শাস্তি পাক।’

এশা প্লাবনকে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছে কীভাবে বুঝলেন? এমন প্রশ্নে সানজিদা আক্তার বলেন, ‘ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে এশা। আর ফোনটি বালিশ ও দেয়ালে এমনভাবে রাখা, যেখান থেকে এশার ঝুলে থাকা দেখা যাবে। আত্মহত্যা করার পরপরই প্লাবনের কথা শুনেও মনে হলো, সে সব দেখেছে।