{"uid":"DF6E8BA9-7159-46A9-A65E-230F5EC24571_1626525514486","source":"other","origin":"gallery","source_sid":"DF6E8BA9-7159-46A9-A65E-230F5EC24571_1626526052459"}

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভোলা জেলার চরফ্যাশনে চৈতী হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী চৈতীর শ্বাশুরীকে গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্ত স্বাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোলা জেলার চরফ্যাশনে চৈতী নামে এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকরে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে চৈতীর পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি।

জানাগেছে, গত ৪ মার্চ ভোলার চরফ্যাসন পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের হরিবাড়ি এলাকায় এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এই এটিকে আত্মহত্যা মনে করা হলেও। চৈতীর পরিবার ও তার সহপাঠীদের দাবি হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে চৈতীর বাবা সুভাষ চন্দ্র রায় চৈতীর শ্বাশুরি নিয়তি রানীকে প্রধান আসামী ও শ্বশুর সমীর মজুমদার এবং স্বামী মানস মজুমদারকে আসামী করে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করায় চরফ্যাসন থানায় একটা মামলা করা হয়। মামলা নং ৪/২০০২ ইং তারিখ ০৫/৩০/২০০২ ইং। পুলিশ ইতিমধ্যে চৈতীর শ্বশুর সমীর মজুমদার এবং স্বামী মানস মজুমদারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু চৈতির পরিবার ও সহপাঠীদের দাবী মামলা প্রধান আসামী এবং হত্যা পরিকল্পনাকারী চৈতীর শ্বাশুরী নিয়তি রানীকে অদৃশ্য কোন প্রভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। নিয়তি রানীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে হবে তাদের দাবি।

নিয়তি রানীকে গ্রেফতার এবং হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে চরফ্যাশন কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃন্দের ব্যানারে চৈতীর সহপাঠিরা ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে।

চৈতীর সহপাঠী সাইদুল ইসলাম সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন ভোরের আলো কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অভিনেতা সোহেল আহমেদ খান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আতিকুর রাহিম, বনি আমিন নওশাদ, সাইদুল ইসলাম অভি, মমিনুল হক, সাইদুল ইসলাম, শাওন, আকিব, আব্বাস প্রমুখ।

চৈতীর বাবা সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, বিয়ের পর আমার মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন নানাভাবে নির্যাতন করতো। বাবার বাড়ি থেকে টাকা কেন আনতে পারছে না সে বিষয়ে মাঝে মধ্যেই শারিরীক নির্যাতনও করতো। আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগলি করলে চৈতী তার প্রতিবাদ করতো। ঘটনার দিন মধ্য রাতে চৈতীর স্বামীর ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন চৈতি আত্মহত্যা করেছেন। এরপর তিনি সেখানে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, আমি এই এলাকার একজন শিক্ষক। আমার মেয়েকে আমি আমার আদর্শে উচ্চ শিক্ষিত করে তুলেছি। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারের দাবি করছি।

এ বিষয়ে, চরফ্যাসন পৌরসভার মেয়র এম মোর্শেদ বলেন, ৩ মার্চ মধ্যরাতে আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমি চরফ্যাশন থানার ওসি সহ পুলিশ নিয়ে চৈতীর শ্বশুর বাড়িতে যাই এবং পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। সে সময় চৈতীর শ্বশুর বাড়ির আশেপাশে শত শত মানুষ বলেছে এটা আত্মহত্যা হতে পারে না। এটা অবশ্যই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। পাড়া প্রতিবেশীদের এমন আশংকার কারনে আমি পুলিশকে বলি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অবশ্যই দোষী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। দোষী যেই হোক সে যেন আইনের ফাক ফোকর দিয়ে বেড়িয়ে যেতে না পারে। তিনি আরও বলে চৈতির বাবা সুভাষ চন্দ্র রায় অত্র এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন শিক্ষক।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। ইতিমধ্যে মামলার দুজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামী চৈতীর শ্বাশুরি নিয়তি রানী পলাতক আছে তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।